শায্যামঃ বিলি ব্যাটসন থেকে ক্যাপ্টেন মার্ভেল

Source: whyruntothetardis.com

গত জুলাই মাসের ১৯ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সান ডিয়েগো কমিক কন ২০১৮। জনপ্রিয় এই কমিক কনের শেষ দিনে দেখানো হয়েছে ডিসি এক্সটেন্ডেড ইউনিভার্সের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র শায্যামের ট্রেইলার।

Source: IMDb

হেনরি গেডেনের চিত্রনাট্য ও ডেভিড এফ স্যান্ডবার্গের পরিচালনায় চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে ২০১৯ সালের ৫ এপ্রিল। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জ্যাকারি লিভাই। এছাড়া বিলি ব্যাটসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন এশার অ্যাঞ্জেল। এছাড়া বৃদ্ধ জাদুকরের ভূমিকায় পর্দায় দেখা যাবে ডেসমন হনসুর মত অভিনয়শিল্পীকে।

চলচ্চিত্রটির প্রধান ভিলেইন হিসেবে ডোয়াইন দ্য রক জনসনের অভিনয়ের কথা থাকলেও তার অভিনীত ব্ল্যাক অ্যাডাম চরিত্রটি চলচ্চিত্রটিতে থাওকছে কিনা সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায় নি।  মূল খলনায়ক হিসেবে থেডিয়াস সিভানার চরিত্রে অভিনয় করবেন ব্রিটিশ অভিনেতা মার্ক স্ট্রং।

Source: DeviantArt

এই ছবিতে দেখা যাবে, কীভাবে মাত্র ১৪ বছর বয়সের এক অনাথ বালক, এক অসীম শক্তিধর সুপারহিরোতে পরিণত হয়। ১৪ বছরের বালকটি হলো বিলি ব্যাটসন, আর সুপারহিরোর নাম শায্যাম। এরপরেই শুরু হয়ে যায় তার অভিযান। আর এই অভিযানে তার সাথে থাকে পালক ভাই ফ্রেডি ফ্রিম্যান। প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্রটি আসার আগে, চলুন জেনে আসা যাক এই সুপারহিরোর ইতিহাস

Source: comicvine

কমিকসের বেশিরভাগ চরিত্রের মত শায্যামের ইতিহাসেরও রয়েছে একাধিক সংস্করণ। তবে আমরা আলোচনা করবো মূলত ১৯৪০ সালে প্রকাশিত উইজ কমিকস ইস্যু ২ নিয়ে। যেটিকে পরে ১৯৪২ সালের ক্যাপ্টেন মার্ভেল অ্যাডভেঞ্চার্স ইস্যু ১৮ এবং ১৯৪৫ সালের দ্য মার্ভেল ফ্যামিলি ইস্যু ১ এ বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

দ্য মার্ভেল ফ্যামিলি ইস্যু ; Source: fr.dc.wikia.com

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী নায়ক এবং ন্যায়ের রক্ষক এই সুপারহিরোকে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় বিলি ব্যাটসন নামের এক অনাথ বালক হিসেবে। রাতের শিফটে সাবওয়ে স্টেশনে পত্রিকা বিক্রির কাজ করত বিলি। একদিন একজন ছায়া মানব সেই স্টেশনে আসেন। বিলিকে ডেকে নিয়ে সাবওয়ের এক জাদুকরী ট্রেনে চড়ে বসেন তিনি। সেই ট্রেন তাদের নিয়ে যায় এক গুহায়। সেখানে বিলি দেখতে পায় পরপর সাজিয়ে রাখা মূর্তির  মাধ্যমে সাতটি মারাত্মক পাপকে প্রকাশ করা হয়েছে। আর তার একটু সামনেই মার্বেল পাথরের তৈরি এক সিংহাসনে এক প্রৌঢ় বসে আছেন।

Source: DC Database

বিলিকে তার নাম ধরে স্বাগত জানান বুড়ো লোকটি। নিজের পরিচয়ে তিনি জানান তার নাম শ্যাযাম (Shazam)। গত ৩০০০ বছর ধরে তিনি মন্দের সঙ্গে লড়াই করছেন। আর এও জানান তার নামটি আসলে একটি অ্যাক্রোনিম।

  •  সলোমনের কাছ থেকে সে পেয়েছে জ্ঞান।
  •  হারকিউলিসের কাছ থেকে সে পেয়েছে শক্তি।
  •  অ্যাটলাসের কাছ থেকে সে পেয়েছে মনোবল।
  •  জিউসের কাছ থেকে সে পেয়েছে ক্ষমতা।
  •  একিলিসের কাছ থেকে সে পেয়েছে সাহস।
  •  মার্কারির কাছ থেকে সে পেয়েছে গতি।

জাদুকর বুড়ো বিলিকে এও বলেন যে, তিনি বিলির জন্মের পর থেকেই তার উপর নজর রাখছেন। বিলির বাবা মায়ের মৃত্যু এবং তার চাচার বিশ্বাসঘাতকতা সবই তিনি দেখেছেন। তাই তিনি বিলিকে নির্বাচন করেছেন তার লড়াইকে চালিয়ে যাবার জন্য।

Source: DC Database

নিজের সমস্ত ক্ষমতা বিলিকে দেওয়ার পর তিনি জানান, বিলিকে কেবল একটিই শব্দ বলতে হবে, আর তা হল “শায্যাম”। তাহলেই সে পরিণত হবে এক অতিমানবে, যার নাম ক্যাপ্টেন মার্ভেল। যার চিহ্ন হচ্ছে বজ্র, লাল পোশাক এবং সোনালী স্কন্ধাবরণ। আর এর পরেই বিশাল এক গ্রানাইটের চাই এসে গুড়িয়ে দেয় জাদুকরকে। আর অলৌকিকভাবে বিলি চলে আসে সাবওয়ের ঢোকার পথে।

পরের দিন স্বাভাবিকভাবেই পত্রিকা বিক্রি করছিল বিলি। এমন সময় হঠাৎ সে শুনতে পায়, একজন লোক  যুক্তরাষ্ট্রের রেডিও ব্যবস্থা ধ্বংস করার ব্যাপারে কথা বলছে। আর এই লোকটি একজন পাগলাটে বিজ্ঞানীর ভাড়াটে গুন্ডা। সেই পাগলাটে বিজ্ঞানীর ছবি আবার সেদিনের পত্রিকার প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছিল। তাদেরকে অনুসরণ করতে করতে বিলি পৌছে যায় স্কাইটাওয়ার অ্যাপার্টমেন্টসে। সেখান থেকে সে রেডিও কোম্পানিতে খবর পাঠায়। রেডিও কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিলি যে খবর দিয়েছে তা যদি সত্যি হয়, তাহলে তিনি নিজেই বিলিকে চাকরি দেবেন।

Source: DC Database

বিল্ডিংয়ে ঢোকার কোন রাস্তা না পেয়ে বিলি পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদে উঠে পড়ে। সেখান সে সিদ্ধান্ত নেয় সে তার নতুন ক্ষমতাগুলো ব্যবহার করবে। নতুন ক্ষমতা বলে এক দালান থেকে লাফিয়ে পৌছে যায় অন্য দালানে। সেখানে গিয়েই শায়েস্তা করে গুন্ডাদের। তবে গুন্ডাদের দলনেতা পাগলা বিজ্ঞানীকে ধরতে পারে নি সে। তাই সে শপথ নেয়, মন্দ লোকটিকে আইনের বিচারের সামনে দাঁড়া করিয়ে তবেই দম নেবে সে।

এরপর বিলি রেডিও কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করে পুরো ব্যাপারটা জানায়। শুধু ক্যাপ্টেন মার্ভেলের ব্যাপারটুকু চেপে যায়। নির্বাহী কর্মকর্তা পুরো ঘটনা শুনে তাকে নিউজ রিপোর্টারের চাকরিতে নিয়োগ দেন।

এর পরের বছর গুলোতে বিলিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে গেছে জাদুকর শায্যামের ভূত। এবং এক পর্যায়ে তার ক্ষমতার কিছু অংশ বিলির পঙ্গু বন্ধু ফ্রেডি ফ্রিম্যান এবং বোন মেরির মধ্যেও দিয়ে দেয়। ওদের নিয়ে বিলি গড়ে তোলে দ্য মার্ভেল ফ্যামিলি।

Source: DC Database

ক্যাপ্টেন মার্ভেলকে অনেকেই শায্যাম ভেবে ভুল করেন। কিন্তু আসলে সে এমন এক সুপারহিরো চরিত্র ছিল, যে কিনা এক সময় জনপ্রিয়তায় সুপারম্যানকেও পেছনে ফেলেছিল। এই জনপ্রিয়তা দেখে ১৯৪১ সালেই ক্যাপ্টেন মার্ভেলকে নিয়ে তৈরি হয় টিভি সিরিজ। কিন্তু সুপারম্যানের ক্ষমতার সাথে অনেক মিল থাকায় ১৯৫৩ সালে এই সিরিজটি বন্ধ হয়ে যায়।

Source: DC Database

১৯৭২ সালে ডিসি কমিকস চরিত্রটির লাইসেন্স নিয়ে নেয়। ১৯৯১ সালে তারা চরিত্রটির স্বত্ব কিনে নেয়। কিন্তু ডিসির প্রতিপক্ষ কমিকস প্রতিষ্ঠানের নাম মার্ভেল কমিকস হওয়ায়, ডিসি ক্যাপ্টেন মার্ভেল নামের একটি চরিত্র নিয়ে উচ্চবাচ্য করতে চাননি। তাছাড়া মার্ভেল কমিকসও ক্যাপ্টেন মার্ভেল নামে, দুজন ভিন্ন মানুষকে নিয়ে  সুপারহিরো কমিকস প্রকাশ করেছিল। আর তাই ডিসির ক্যাপ্টেন মার্ভেলকে নিয়ে বানানো যত অ্যানিমেটেড সিরিজ এবং চলচ্চিত্র আছে, সব জায়গায় ক্যাপ্টেন মার্ভেলের পরিবর্তে শায্যাম নামটি ব্যবহার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.