ঘরে বসে শেভ করুন ঝামেলা ছাড়াই

সাজসজ্জাকে যেভাবে নারীর ভূষণ বলা হয়, তেমনি দাড়িকে পুরুষের সৌন্দর্য বলা যায়। অনেক পুরুষই বাড়িতে বসেই দাড়ি ছাটা, কাটা কিংবা ডিজাইন করে থাকেন। কারণ সারাদিনে তেমন সময় বের করে নিয়ে পছন্দের সেলুনটিতে যাওয়া মাঝে মাঝে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। আবার সবসময় একই নরসুন্দরকে নিজের জন্য খুঁজে পাবেন, তাও হয় না। নির্দিষ্ট কোনো নরসুন্দর যেভাবে আপনার দাড়ির ডিজাইন করে দেবে, আরেকজনের হাতে সেটা ঠিক সেভাবে নাও ফুটে উঠতে পারে।

দাড়িকে চেহারার সাথে মানানসই করে কাটা একটা শিল্পের মত। একজন শিল্পী যেমন তার ছবি ফুটিয়ে তুলতে বেছে বেছে ক্যানভাস ও রংতুলি কিনে আনেন, তেমনি যারা ঘরে বসেই দাড়ি সুন্দরের কাজটি করে যাচ্ছেন তাদেরকেও বেছে বেছে রেজর কিনতে হবে। হ্যাঁ, আমাদের আজকের আয়োজনে থাকছে রেজর বাছাই করার ব্যাপারে কিছু পরামর্শ যা আপনার এই শিল্পকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করবে।

১. রেজরের ধরন

প্রথমেই আমাদের ধারণা থাকতে হবে যে কোন ধরনের রেজর কী কাজ করে থাকে। এখানে চার ধরনের রেজর নিয়ে আলোচনা করা হলো।

  • সেফটি রেজর

যারা প্রথম প্রথম দাড়ি কাটছেন, তাদের জন্য এই রেজরটি সেরা পছন্দ হতে পারে।  এ ধরনের রেজরে সাধারণত দুটি বা তিনটি ব্লেড থাকে এবং ব্লেডটি একটি সেফটি ধার দ্বারা বেষ্টিত থাকে। যার জন্য খুব সহজেই এবং নিরাপদে দাড়ি কাটা যায়। তবে এই ধরনের রেজর দিয়ে তেমন কোন ডিজাইন করা যায় না। ক্লিন শেভ করার জন্য এই রেজরটি সবচেয়ে ভালো।

  • কার্তুজ রেজর

এই ধরনের রেজরে সাধারণত ব্লেডটি খোলা থাকে। ব্লেডের উপরে এবং নিচে ঢাকনা থাকলেও এর ধারালো অংশটুকু খোলা থাকে। ক্লিন শেভের জন্য এ ধরনের ব্লেড ব্যবহৃত হয়। এই রেজর অভিজ্ঞদের জন্য ভালো। কাঁচা হাতে ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা ঘটার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।

  • ক্ষুর

এটি দাড়ি কাটায় ব্যবহৃত সবচেয়ে পুরানো রেজর। এতে সরাসরি ব্লেড লাগিয়ে ব্যবহার করা হয়। সেলুনে নরসুন্দরেরা এ ধরনের রেজর বেশি ব্যবহার করে থাকেন।

  • ওয়ান টাইম রেজর

এ ধরনের রেজরে ব্লেডসহ পুরো রেজরটি একবারই ব্যবহার করা যায় এবং একবার দাড়ি কাটা হলে পুরোটাই ফেলে দিতে হয়। ভ্রমণে ব্যাগ ভারি না করতে চাইলে এরকম হালকা রেজর আপনার সঙ্গী হতে পারে।

২. আপনার দৈনন্দিন রুটিন

রেজর কেনার আগে এই বিষয়টিও লক্ষণীয়। আপনি যদি প্রায়ই দেশের বাইরে বা দেশের ভেতরেই মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে আপনার দাড়ি সবসময় গোছানো কাটের হতে হবে। আবার আপনি যদি ছাত্র বা সদ্য ইন্টার্ন হন তাহলে কিছুটা অনাড়ম্বর কাটেও আপনাকে মানিয়ে যাবে সহজেই।

৩. চামড়ার সংবেদনশীলতা

আপনার ত্বক কতটুকু সহ্য করতে পারছে, সেটাও আপনাকে ভাবতে হবে। অতিরিক্ত ব্লেড ব্যবহারে যদি আপনার ত্বকে ফুসকুড়ি ওঠে বা অন্য কোনো সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে আপনাকে সেভাবেই রেজর বেছে নিতে হবে।

৪. রেজরের হাতল

রেজরের ব্লেডেই তো মূল কাজ, তাহলে হাতল দেখে কী হবে? খুবই যৌক্তিক প্রশ্ন। কিন্তু ভালো গুনাগুনসম্পন্ন রেজর চিনতে পারবেন তার হাতল দেখেই। হাতল যদি বড়, মজবুত এবং ভালো গ্রিপের হয় তাহলে বুঝতে হবে রেজরটি ভালো। হাতল যদি ছোট বা নড়বড়ে হয়, আপনি যতই পটু হোন না কেন, দুর্ঘটনা ঘটবেই।

৫. মূল্য

সাধ্যের সাথে সমন্বয় না হলে রেজরের দিকে যেন চোখ পড়তেই চায় না। সামান্যই কাজ এর, এর পেছনে বেশি টাকা খরচ করাটা অনর্থক মনে হতেই পারে। কিন্তু ভালো জিনিসের মূল্য সাধারণত বেশিই হয়।আর রেজর যেহেতু খুব প্রয়োজনীয় এবং নিত্য ব্যবহার্য একটি জিনিস, তাই এই ব্যাপারে একটু হাত খোলা হলে আপনারই লাভ।

কিছু ভালো মানের রেজর

১. মার্কার ফিউচার অ্যাডজাস্টেবল সেফটি রেজর

জার্মান প্রযুক্তিতে তৈরি এই রেজরটি প্রথম ১৯৮০ সালে বাজারে আসে। এটি ওজনে ভারি হওয়ায় সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং যারা একদমই নতুন, তারা সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।

মার্কার ফিউচার সেফটি রেজর; Source: The Shaving Shack

২. জিলেট ম্যাক৩ টার্বো মেনজ রেজর

ম্যাক ৩ একটি সহজলভ্য রেজর, এর ব্লেডও সহজে বদলানো যায়। এই রেজরে তিনটি ব্লেড পাশাপাশি বসানো থাকে বলে খুব সহজেই এক টানে দাড়ি ছাটা যায়। ব্লেডের চারপাশে এক ধরনের রাবারের তৈরি সেফটি গার্ড দেয়া থাকায় চামড়া কেটে যাবার সম্ভাবনা একেবারে নেই বললেই চলে। তবে অন্যান্য রেজরের চেয়ে এর মূল্য একটু বেশি।

ম্যাক৩ টার্বো; Source: Gillete India

৩. ফেদার এসএএস জাপানিজ স্ট্রেইট রেজর

স্ট্রেইট রেজর বা ক্ষুর কিছুটা অভিজ্ঞদের রেজর হলেও বলা বাহুল্য, এই ক্ষুর দিয়েই সবচেয়ে সুন্দর ডিজাইন আনা সম্ভব। এই রেজরটি তাপধারক এবং এর ব্লেড সহজে পরিবর্তন করা যায় বলে বলে বাজারে এর জনপ্রিয়তাও  অনেক।

ফেদার এসএএস জাপানিজ স্ট্রেইট রেজর; Source: Grooming Manifiest

৪. জিলেট ফিউশন ফাইভ প্রোগ্লাইড পাওয়ার মেনজ রেজর

ম্যাক৩ টার্বোর মত এটিও ব্লেড পরিবর্তনযোগ্য এবং পাঁচটি ব্লেড সমৃদ্ধ রেজর। এই রেজরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি ত্বকে ধরে বসানোর সময় পুরো ব্লেডের অংশটি ত্বকের আকার অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।  ফলে কেটেছড়ে যাবার ভয় একদমই নেই। দাম বেশি হলেও এই রেজর বাজারের অন্যান্য রেজরের তুলনায় এগিয়ে থাকবে।

জিলেট ফিউশন ফাইভ প্রোগ্লাইড পাওয়ার মেনজ রেজ; Source: MegaDepot

৫. শিক (Schick) হাইড্রো ফাইভ পাওয়ার সিলেক্ট রেজর

এই রেজর ব্যাটারিতে চলে, জেল রিজার্ভার এবং এর অনেক ধরণের সেটিংসের জন্য বিখ্যাত। রেজরটি ব্যবহারের সময় আপনাকে আলাদা করে শেভিং ক্রিম বা জেল বহন করতে হবে না। বরং রেজরের হাতলের অংশেই আপনি শেভিং  ক্রিম রাখতে পারবেন। শেভ করার সময় প্রয়োজনমত ক্রিম বা জেল বেরিয়ে আপনার দাড়িকে নরম করে তুলবে। এই রেজরের ছোটো একটি সমস্যা হলো, এর ব্লেড অন্যান্য রেজরের তুলনায় দ্রুত ভোঁতা হয়ে যায়।

শিক (Schick) হাইড্রো ফাইভ পাওয়ার সিলেক্ট রেজর, Source: Kuzya Tech

তাহলে আর দেরি নয়, বাসায় বসে চমৎকারভাবে শেভ করে নিজেকে সুন্দর করে তুলুন।

ফিচার ইমেজ সোর্সঃ ties.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.