মাথায় খুশকির অত্যাচারে বিরক্ত? পড়ুন খুশকি দূর করার উপায়

বর্তমান সময়ে নারী ও পুরুষ সকলের একটি প্রধান সমস্যা হলো, চুলে খুশকির সমস্যা। খুশকি যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। খুশকি চুলের সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দেয় এবং চুলের গোড়াকে নরম ও দুর্বল করে দেয়। চুলে বা মাথার ত্বকে খুশকি হলে খুব চুলকায় এবং খুশকি থেকে মাথার ত্বকে ঘা, প্রদাহ হয়ে যেতে পারে। সাধারণত যদি মাথার ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করা না হয়, তাহলে মাথায় খুশকি হয়। এছাড়া নিয়মিত চুল না ধুলে, চুল না আঁচড়ালে, মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে, মাথায় অতিরিক্ত তেল দিলে খুশকি হয়। মাথায় খুশকি হলে তা থেকে মুখে ব্রণও হয়ে থাকে।

Photo: CureJoy

তাই দ্রুত খুশকির সমাধান করা প্রয়োজন। খুশকি প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উপায়ে দূর করা যায়। নারী ও পুরুষ উভয়ের উচিত প্রাকৃতিক অথবা কৃত্রিম যেকোনো উপায়ে দ্রুত খুশকি দূর করা। নয়ত চুলের গোড়া অনেক নরম হয়ে যাবে,যা থেকে চুলের গোড়া ও মাথার ত্বকে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। জেনে নিন খুশকি দূর করার ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক কিছু উপায় সম্পর্কে।

মেথি ও তেল

মেথি চুলের জন্য দারুণ উপকারী। চুলে মেথি দিলে চুল পড়া কমে এবং চুল সুন্দর হয়। মেথি খুশকি দূর করার ক্ষেত্রেও কাজে লাগে। একটি বোতলে তেলের সঙ্গে মেথি মিশিয়ে রেখে দিন। তারপর সপ্তাহে  দু’একবার তেল মিশ্রিত মেথি অথবা মেথি মিশ্রিত তেল মাথায় দিন। রাতের বেলা মাথায় এই তেল দিয়ে সকালে ধুয়ে ফেলুন।

Photo: IndiaMART

এতে ভালো উপকার পাবেন। নিয়মিত এই তেলের ব্যবহারে আপনি খুশকি থেকে রেহাই পাবেন,  চুল ও মাথার ত্বক হবে সুন্দর।

লবণের ব্যবহার

মাথায় লবণের ব্যবহারে খুশকি দূর হয়। কী, অবাক হচ্ছেন? না, অবাক হওয়ার কিছু নেই। মাথায় হালকা করে লবণ মেখে তা পরে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললে খুশকির সমস্যা থেকে বাঁচা যায়। মাথায় লবণ দিলে চুলকানি দূর হবে এবং আপনিও শান্তি পাবেন। কারণ লবণ খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে দারুণ কাজ করে।

ঘৃতকুমারী

ঘৃতকুমারীর নানা গুণাগুণের কথা হয়তো অনেকেই জানেন। এই ঘৃতকুমারী খুশকি দূরীকরণেও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

Photo: Medical News Today

ঘৃতকুমারীর রস খুশকিতে আক্রান্ত ত্বক ও চুলে দিলে চুলকানি থেকে রেহাই পাবেন। এছাড়া ঘৃতকুমারীর রস ত্বকের নানাবিধ সমস্যা দূর করে থাকে।

বেকিং সোডা

বেকিং সোডা খুশকি দূর করতে সহায়তা করে। প্রথমে পুরো মাথা ভিজিয়ে নিন। তারপর ভেজানো চুলে বেকিং সোডা মেখে নিন। তারপর পানি ও শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। তবে ঘষে ঘষে চুল ধোয়ার প্রয়োজন নেই। বেকিং সোডা মাথার ত্বকের ছত্রাকসহ খুশকি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। তবে বেকিং সোডার ব্যবহারে প্রথমে মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। পরবর্তীতে তা ঠিক হয়ে যাবে।

লেবুর রস

লেবুর রস নানান উপকারে আসে।এমনকি  চুলের খুশকি দূর করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথমে দুই টেবিল চামচ লেবুর রস নিয়ে পুরো ত্বকে ঘষে ঘষে লাগান। তারপর আরো এক টেবিল চামচ লেবুর রস এক কাপ পানিতে মেশান। এই লেবু মিশ্রিত পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এই পদ্বতি অনুসরণ করতে পারেন। এতে আপনি খুশকির সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন।

Photo: Women’s Health

তাছাড়া গোসলের আগে মাথায় লেবুর রস দিয়ে রেখে পনেরো থেকে বিশ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে খুশকি দূর করা যায়। তবে এটি নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।

জলপাই তেল

অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। এটি ভালো ক্লিনজার হিসেবেও কাজ করে। ত্বকের আর্দ্রতা ও মসৃণতা বজায় রাখতে, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে, খুশকি দূর করতে জলপাই তেল সাহায্য করে। নিয়মিত জলপাই তেল ব্যবহার করলে খুশকির মাত্রা অনেকটাই কমে আসবে।

রিঠা

রিঠা চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে দারুণ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। রিঠা চুল থেকে খুশকি দূর করতেও ভূমিকা রাখে। খুশকি প্রতিরোধে রিঠা পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া রিঠা মিশ্রিত পানি সেদ্ধ করে বা ফুটিয়ে তা ঠান্ডা করে মাথায় দিতে পারেন। তারপর এক ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে এক বা দুই বার মাথায় রিঠার ব্যবহার করলে খুশকির সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

টক দই

টক দই সৌন্দর্য ও চুলের  পরিচর্চায় ব্যবহৃত হয়। এটি চুলের খুশকি দূর করতেও সাহায্য করে। মাথার ত্বকে ভালোভাবে টক দই ম্যাসাজ করে পনেরো থেকে বিশ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

 

Photo: 9Coach – Nine

এভাবে সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন। নিয়মিত ব্যবহারে চুল থেকে খুশকি দূর হবে।

পেঁয়াজের রস

পেঁয়াজের রস খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। প্রথমে দুইটি পেঁয়াজ বেঁটে নিন বা ব্লেন্ড করে নিন। এরপর পেঁয়াজের রস এক মগ পানিতে মিশিয়ে নিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। এক ঘন্টা পর হালকা গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

Photo: Daily Times

এভাবে নিয়মিত পেঁয়াজের রস ব্যবহারে আপনি খুশকির সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। তবে খেয়াল রাখবেন,  পেঁয়াজের রস যেন চোখে না লাগে। পেঁয়াজের রস চোখে লাগলে চোখ জ্বালা করবে এবং অনেক সময় মুখে লাগলে তা থেকে ব্রণও হতে পারে।

নিমপাতা

নিমপাতায় রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা চুলের ও মাথার ত্বকের ছত্রাক দূরীকরণে সাহায্য করে। চুলের গোড়ার ঘা, ক্ষত ও যেকোনো সমস্যা সমাধানে নিম পাতা দারুণ কার্যকরী। অনেক আগে থেকে চুলের যত্নে নিম পাতা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রথমে চার বা পাঁচ কাপ পানিতে নিম পাতা সেদ্ধ করে নিন। তারপর এটি ঠান্ডা হয়ে গেলে নিমপাতার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। অথবা নিম পাতা বেটে মাথায় দিয়ে রাখুন। এক ঘন্টা পর চুল ধুয়ে ফেলুন।

ফিচার ইমেজ সোর্সঃ newsbytesapp.com

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.