কীভাবে ঘরে বসে লিকুইড ফাউন্ডেশন তৈরি করবেন

সাজগোজে ফাউন্ডেশন; Source: miskick.vn

ফাউন্ডেশন ছাড়া কি আর সাজগোজ পূর্ণতা পায়? যারা মেকআপ করতে পছন্দ করেন, তারা জানেন মেকআপ   পরিপূর্ণ করার জন্য ফাউন্ডেশনের গুরুত্ব কতটা। কিন্তু বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব কসমেটিকসের উপরও পড়েছে। ফলস্বরূপ ফাউন্ডেশনের দামও অনেকের নাগালের বাইরে। কিন্তু তাই বলে কি নিজেকে সাজানো বন্ধ করে দিতে হবে? অবশ্যই না। বাইরের চড়া দামের ফাউন্ডেশন যদি আপনি ব্যবহার করতে না চান, তবে ঘরেই বানিয়ে নিন আপনার পছন্দমত ফাউন্ডেশন।

 লিকুইড ফাউন্ডেশন বানানোর প্রণালি

পাউডার ফাউন্ডেশন এবং ময়শ্চারাইজার এর মিশ্রণ; Source: wikihow.com

১. মিক্সিং প্যালেট হিসেবে একটি ছোট বোতল নিন

সবচেয়ে ভালো হয় যদি প্রতিবার ব্যবহারের সময় নতুন করে তৈরি করে নেয়া যায় অথবা যতক্ষণ পর্যন্ত উপাদানের পরিমান ঠিক আছে ততক্ষণ ব্যবহার করলে। শুরু করতে হবে ছোট মিক্সিং প্যালেটে, যেমন কন্টাক্ট কেস অথবা লিপ বামপট দিয়ে। এতে যদি অবশিষ্ট থেকেও যায়, তাহলে দিনের অন্য অংশে তা টাচআপ করতে পারবেন।

 

লিপ বাম পট; Source: amazon.com

২. আপনার পাউডার ফাউন্ডেশন পাত্রে ছড়িয়ে দিন

২/১ চিমটি পাউডার দিয়ে শুরু করবেন। মনে রাখতে হবে, আপনি একবার অথবা দুইবার ব্যবহার করার জন্য তৈরি করছেন। পরবর্তীতে আপনি চাইলে সুবিধামত বাড়াতে পারবেন।

পাউডার অন্য পাত্রে নেয়ার জন্য প্লাস্টিকের চামচ ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার হাতের তেল পাউডারে লেগে রঙ পরিবর্তন করে দেবে না।

 ৩. পাউডারের সমপরিমাণ ময়েশ্চারাইজার কন্টেইনারে নিন

ময়েশ্চারাইজার বিশেষ করে আপনার মুখের জন্য তৈরি করা হয়ে থাকে তাই বডি লোশন বা এ জাতীয় কিছু ব্যবহার করবেন না। আপনার ময়েশ্চারাইজারেে যদি সানস্ক্রিন ফর্মুুুুলা থাকে তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়।

যদি ময়শ্চারাইজার ভালোভাবে না মেশে, তাহলে তেলমুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

৪. এবার দু’টি ফর্মুলাকে একটি কাটা চামচ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন

যতক্ষণ পর্যন্ত না মিশ্রণ তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মেশাতে হবে।

ফাউন্ডেশন তৈরির প্রক্রিয়া শেষে হাতে লাগিয়ে দেখে নেবেন ত্বকের সাথে মানানসই কিনা; Source:gearbest.com

৫. হাতের কব্জিতে অথবা চিবুকে নিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন, ত্বকের সাথে মানানসই কিনা

খেয়াল রাখবেন, পরীক্ষা করার সময় আপনি মিশ্রণটি ভালোভাবে মিশিয়েছেন কিনা।

৬. ফাউন্ডেশন এবং ময়েশ্চারাইজার মিশিয়ে নিন

এবার আপনি কি রকম কভারেজ চান তার উপর নির্ভর করে পাউডার ফাউন্ডেশন এবং ময়েশ্চারাইজার মিশিয়ে নিন।

৭. ত্বকে লাগিয়ে নিন

অন্যান্য ফাউন্ডেশনের মত এটিও এবার ব্রাশ বা স্পঞ্জ দিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিতে পারেন। প্রয়োজন অনুসারে রেখে দিতে পারেন পরর্তীতে টাচআপের জন্য।

শিয়া বাটার, জোজোবা ওয়েল, লুজ মিনারেল পাউডার দিয়ে ফাউন্ডেশন

১. আধা চামচ শিয়া বাটার, আধা চামচ জোজোবা ওয়েল এবং এক চামচ লুজ মিনারেল পাউডার একসাথে ডাবল বয়লারে নিয়ে চুলায় দিবেন। এটি শুষ্ক ত্বকের অধিকারীদের জন্য অধিক প্রযোজ্য।

২. মাঝারি তাপে মিশ্রণটি নাড়তে থাকুন। যতক্ষণ পর্যন্ত না শিয়া বাটার গলে যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন।

৩. মিশ্রণটি মসৃণ হয়ে গেলে একটি পরিষ্কার চামচের সাহায্যে একটি পাত্রে ঢেলে রাখবেন। ভালো হয় যদি পাত্রটি ফাউন্ডেশনের খালি পাত্র হয়ে থাকে।

৪. মিশ্রণটি ঠান্ডা হলে এটি ব্যবহার উপযোগী হবে। গরম অবস্থায় এটি ব্যবহার করবেন না। আপনার রেগুলার ব্রাশ বা স্পঞ্জ দিয়ে তৈরি ফাউন্ডেশন লাগাবেন।

তৈরি করার কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ফাউন্ডেশনটি ব্যবহার করা যাবে।

টিন্টিং হোমমেড ফাউন্ডেশন

১. ফাউন্ডেশনের গাঢ় শেড আনার জন্য সামান্য পরিমাণ কোকোয়া পাউডার ব্যবহার করুন

মেশানোর সময় আস্তে আস্তে অল্প অল্প করে প্লাস্টিকের চামচের সাহায্যে মেশাতে হবে। এতে সঠিক শেড নিয়ে আসা সহজ হবে। কোকোয়া পাউডার শেডকে প্রাকৃতিকভাবে গাঢ় করে।

২.  শেড গাঢ় করার কাজে দারুচিনি গুঁড়ো ব্যবহার করুন

আপনার ত্বক যদি ওয়ার্ম টোনের হয়, তাহলে সামান্য পরিমাণ দারুচিনি গুঁড়ো এবং কোকোয়া পাউডার মিশিয়ে আপনার শেডকে ওয়ার্ম করতে পারেন। এক চিমটি করে দারুচিনি গুঁড়ো দিয়ে প্লাস্টিকের চামচ দিয়ে মিশ্রণটি তৈরি করবেন।

আপনি যদি লিকুইড ফাউন্ডেশন ব্রোঞ্জার হিসেবে ব্যবহার করতে চান, তাহলে দারুচিনি পাউডারের পরিমাণ  একটু বাড়িয়ে দিলে ভালো ওয়ার্মথ পাবেন।

দারুচিনি ও দারুচিনি গুঁড়ো Source : spice-root.com

৩. শেড পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন রকমের মশলা ব্যবহার করতে পারেন

মুুইরা পুমা বার্ক , সাসাফ্রার বার্ক, দারুচিনি গুঁড়ো, সি বাকথন ফ্রুট পাউডার সবচেয়ে সহজলভ্য মশলা। আপনার হাতের কাছে এগুলো থাকলে একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

৪.  গ্লোয়িং ব্রোঞ্জার ইফেক্টের জন্য মিকা পাউডার

ব্রোঞ্জে মিকা পাউডার দিয়ে সুন্দর উজ্জ্বলতা তৈরি করতে পারবেন।গ্লোয়িং ইফেক্ট আসার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মেশাতে হবে।আপনি যেকোনো বিউটি সাপ্লাই স্টোর বা অনলাইনে মিকা পাউডার পেতে পারেন।

৫. সানস্ক্রিনের জন্য জিংক অক্সাইড

জিংক অক্সাইড আপনার ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর আলোকরশ্মি থেকে রক্ষা করবে। কেনার সময় আনকোটেড, নন ন্যানো, ননমাইক্রোনাইজড জিংক অক্সাইড কিনবেন কারণ এটি আপনার কভারেজ লেভেল বাড়িয়ে দেবে। জিংক অক্সাইড আপনার ত্বক কোমল, মসৃণ এবং আর্দ্র রাখতে সাহায্য করবে।

১ আউন্স (২৮ গ্রাম) জিংক অক্সাইডে প্রায় এসপিএফ ২০ থাকে; Source:snapdeal.com

জিংক অক্সাইড আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর নয় কিন্তু এটি ব্যবহারের সময় ডাস্ট মাস্ক এবং গ্লাভস পরবেন। কারণ এটি নিশ্বাসের সাথে আপনার ফুসফুসে চলে যেতে পারে ও পরবর্তীতে আপনার রক্তের সাথে মিশে যেতে পারে।অতিরিক্ত মাত্রায় জিংক অক্সাইড গ্রহণ আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

তাই ব্যবহারের আগে আপনার কতটুকু প্রয়োজন পরীক্ষা করে নিতে হবে। তবে যেকোনো ক্ষেত্রে এক থেকে চার চা চামচ ব্যবহার করা শ্রেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.