ঘরে তৈরি করুন চুলের ময়েশ্চারাইজার

বাংলাদেশ মৌসুমি আবহাওয়ার দেশ হলেও বিশ্ব জুড়ে তাপমাত্রা এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আমাদের দেশের তাপমাত্রা এখন অনেক বেশি। আর উচ্চ তাপমাত্রা এবং সূর্যের অত্যাধিক তাপ আমাদের চুলের জন্য বিপদের কারণ। এছাড়া রাস্তাঘাটের ধুলাবালি আমাদের চুলের সৌন্দর্য নষ্ট করে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। সুন্দর চুল মানে নিজের  সৌন্দর্য। আর শহুরে ব্যস্ত জীবনে আমাদেরও সময় হয় না চুলের যত্নআত্তি করার।আবার ব্যয়বহুল কসমেটিকস যেমন আমাদের নাগালের বাইরে, তেমনি চুলের জন্য ক্ষতিকরও বটে। তাই যারা নিজেকে ভালোবাসেন তারা যত্ন করেন নিজের চুলের, আর এই যত্নআত্তি সম্ভব ঘরে বসেই, ঘরোয়া উপাদানেই। আজ আপনাদের জন্য তাই নিয়ে এলাম ঘরে বসে চুলের যত্নের কিছু সহজ কিন্তু কার্জকরী রেসিপি।     

চুলের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ উপাদান ময়েশ্চারাইজার। চাইলে আপনি ঘরের সামগ্রী দিয়েই তৈরি করতে পারেন উন্নত মানের ময়েশ্চারাইজার। ঘরে বানানো বেশ কিছু সহজ ময়েশ্চারাইজার নিয়েই এই লেখা। 

১) মধু আর অলিভ অয়েলের সহজ ময়েশ্চারাইজার

অলিফ অয়েল কে ধরা হয় প্রাকৃতিক কন্ডিশনার। অলিভ ওয়েল চুলকে নরম করে সাথে মধুর কোমল আবরণ মিলে চুলের উপর তৈরি হয় মখমলের আস্তরণ সাথে সুন্দর নরম চুল।

হাতের কাছে যা থাকা চাই 

  • ৪ চামচ পরিমাণ অলিভ অয়েল
  • ২ চামচ পরিমাণ মধু
  • চুল ঢাকার পাতলা প্লাস্টিকের টুপি
Image Source: Shutterstock

যেভাবে ব্যবহার করবেন 

  • বাটিতে করে মধু এবং অলিভ অয়েল নিন এবং ভালো করে মেশান যতক্ষণ না সুন্দর মিশ্রণ তৈরি হয়  
  • চুলকে চার ভাগে সিঁথি করে ভাগ করে নেবেন। এরপর সিঁথি দিয়ে এবং চুলের গোড়া দিয়ে চুলের আগা  পর্যন্ত ধীরে ধীরে লাগাবেন ।  
  • লাগানোর পর প্লাস্টিকের টুপি দিয়ে চুল ৩০ মিনিট ঢেকে রাখুন । 
  • ৩০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানিতে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু ব্যবহারের ক্ষেত্রে মনে রাখবেন হালকা ধাঁচের সালফারবিহীন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। কারণ সালফার চুলের উজ্জ্বলতা ও কোমলতা কমিয়ে দেয়।    

মনে রাখবেন, সপ্তাহে একদিন এই মিশ্রণ ব্যবহার করা উচিত তবে মাসে ২ বারের বেশি নয়।   

২) ডিম এবং অলিভ অয়েলের ঘরোয়া কন্ডিশনার

ডিমের কুসুম যেমন চুল নরম করে, তেমনি চুলের পুষ্টিকর উপাদান সমূহ রয়েছে ডিমের কুসুমে । ডিমের পুষ্টির সাথে অলিভ অয়েলের মখমল আবরণ মিলিয়ে এটি সত্যিই চুলের সেরা কন্ডিশনার ।   

হাতের কাছে যা থাকা চাই

  • ২ টি ডিমের কুসুম
  • ২ চামচ  অলিভ অয়েল
  • চুল ঢাকার পাতলা প্লাস্টিকের টুপি
  • পানি
Image Source: Shutterstock

যেভাবে ব্যবহার করবেন 

  • বাটিতে করে অলিভ অয়েল নিন এবং ডিমের কুসুম মিশিয়ে নিন। মেশান ভালো করে যতক্ষণ না সুন্দর নরম মিশেল হয়।
  • চুলকে চার ভাগে সিঁথি করে ভাগ করে নেবেন। এরপর সিঁথি দিয়ে এবং চুলের গোড়া দিয়ে চলের আগা পর্যন্ত লাগাবেন ধীরে ধীরে। এছাড়া চুল পড়া সমস্যার জন্য যেসব জায়গায় চুল কমে যাচ্ছে সেখানেও লাগান।
  • লাগানোর পর প্লাস্টিকের টুপি দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন ৩০ মিনিট এর জন্য
  • এই মিশেল সবচেয়ে ভালো কাজ করে ঘন্টাব্যাপি,তাই চেষ্টা করুন এক ঘন্টা রাখতে।
  • ঘন্টা খানেক পর ঠাণ্ডা পানিতে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু ব্যবহারের ক্ষেত্রে সালফার বিহীন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

এখানে মনে রাখা দরকার, সপ্তাহে একবার করে হলেও এই মিশ্রণ চুলে লাগাতে হবে।  

৩) নারকেল তেলের ঘরোয়া কন্ডিশনার 

বাংলার ঘরে ঘরে নারকেল তেল সুপরিচিত এক নাম। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত সব ঘরেই এক বোতল নারিকেল তেল পাওয়া যাবেই। হাজার বছর ধরে নারকেল তেল আমাদের অন্দরের অংশ শুধু এর সহজলভ্যতা এবং অসাধারণ উপকারিতার জন্য। নারকেল তেল তাই চুলের সেরা-সস্তা-কাজের  কন্ডিশনার। নারকেল তেলের ফ্যাটি এসিড চুলকে নরম করে।  

হাতের কাছে যা থাকা চাই 

  • তিন চামচ নারকেল তেল
  • হাল্কা কুসুম গরম পানিতে ভেজানো টাওয়েল

 

Image Source: Shutterstock

যেভাবে ব্যবহার করবেন 

  • কয়েক সেকেন্ড ধরে তেল গরম করে নিন
  • হালকা গরম তেল প্রথমে আপনার মাথার চামড়ায় মালিশ করে নিন ভালোভাবে। এরপর চুলের গোঁড়া পর্যন্ত তেল দিন। মাথার চামড়ায় ভালোভাবে তেল মাসাজ করে নিন কেননা চুলের পুষ্টি পায় সরাসরি চুলের গোড়া থেকে। এছাড়া মাথার চামড়ায় মালিশের ফলে চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল বাড়ে, যা চুলের জন্য সবচেয়ে উপকারী ।
  • চুলে এবং মাথার খুলিতে তেল লাগানো হলে কুসুম গরম পানিতে ভেজানো টাওয়েল দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন।
  • ৪৫ মিনিট রেখে দিন
  • ৪৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানিতে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আমরা সবাই কম বেশী চুলে নারকেল তেল ব্যবহার করলেও ঠিক নিয়ম মতো ব্যবহার না করায় ভালো ফল পাইনা।  তাই এখন থেকে এভাবে চেষ্টা করে দেখুন। 

৪) মাখনের কন্ডিশনার 

মাখনের মাঝে রয়েছে ফ্যাটি এসিড, আর মাখনের সাথে যেকোনো তেল ব্যবহার করলে তেল এবং মাখনের ফ্যাটি ক্রিম মিলে প্রথমে দুর্বল এবং ভাঙ্গা চুলের অংশ সারাতে সহায়তা করে। এই মিশেল চুলকে যেমন করবে নরম তেমনি চুলের পুষ্টির ভালো উৎস হবে।

হাতের কাছে যা থাকা চাই

  • ১ চা  চামচ মাখন
  • ২  চা চামচ নারিকেল তেল
  • অলিভ অয়েল
Image Source: Shutterstock

যেভাবে ব্যবহার করবেন 

  • মাখন এবং নারিকেল তেল হালকা গরম করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • এর সাথে আপনার পছন্দের যেকোনো তেল মিশিয়ে নিন। 
  • তেল মাখনের এই মিশেল চুলের আগা থেকে গোঁড়া পর্যন্ত ভালোভাবে লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট।
  • ৩০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন, হালকা ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন। 

শত ব্যস্ততার মাঝেও সপ্তাহে ২-৩ বার এই মিশ্রণটি ব্যবহার করুন। এভাবে অল্প সময়ের জন্য হলেও নিজের চুলের যত্নে মনোযোগী হন।  

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.