পুরুষদের মাথায় খুশকি হওয়ার কিছু কারণ

খুশকি সমস্যা একটি বড় সমস্যা। নারী পুরুষ উভয়ের মাথায় খুশকি হয়। এমনকি শিশুদের মাথায়ও খুশকি হতে  দেখা যায়। মাথায় অথবা চুলের গোড়ায় খুশকি হলে ত্বকে ক্ষত সৃষ্ট হয় এবং ত্বক অনেক চুলকায়। তাছাড়া বাইরে বের হলে মাথার খুশকি জামায় পড়ে। তখন সবার সামনে খুব বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় । অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে খুশকি হতে পারে। তাছাড়া চুল না আঁচড়ালে, শ্যাম্পু দিয়ে চুল না ধুলে, অতিরিক্ত শুষ্ক ও অতিরিক্ত আর্দ্র ত্বকে খুশকি হয়ে থাকে। তাই খুশকি থেকে বাঁচার জন্য পরিষ্কার পরিছন্ন থাকার জুড়ি নেই। মাথায় খুশকি থাকলে মুখেও ব্রণ, দাগ, চুলকানি দেখা দিতে পারে। এছাড়া কানের নিচে, ঘাড়ে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। আসুন জেনে নিই, মাথায় খুশকি হওয়ার কারণগুলো সম্পর্কে।

খুশকি হওয়ার কারণ

মাথায় কেন খুশকি হয়, তার  প্রকৃত কারণ অজানা। তবে এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মাথায় খুশকি হয় হরমোনজনিত কারণে।

Photo: Star2.com

তাছাড়া অনেক সময় বয়ঃসন্ধিকালে মাথায় খুশকি হয়ে থাকে। এগুলো ছাড়াও খুশকি হওয়ার আরো কিছু কারণ রয়েছে।

নিয়মিত চুল না আঁচড়ানো

গবেষকরা মনে করেন নিয়মিত চুল না আঁচড়ালে মাথায় খুশকি হয়ে থাকে। কারণ চুল না আঁচড়ালে  চুলে জট বেঁধে যায়, চুল অপরিষ্কার থাকে, চুলের গোড়ায় ঘাম জমা হয়। তাছাড়া বাইরের ধুলোবালি ও ময়লা চুলের গোড়ায় জমে থাকে।

Photo: gettyimages.com

যার ফলে চুলে খুশকি হয়। তাই নিয়মিত চুল আঁচড়ানো প্রয়োজন। নিয়মিত চুল আঁচড়ালে মাথায় খুশকি হয় না এবং ত্বকও সুস্থ থাকে।

ছত্রাকের সংক্রমণ

মাথায় ও ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ হলে চুলে খুশকি হয়ে থাকে। কারণ ছত্রাক ত্বককে দূষিত করে ফেলে। বিশেষ করে শীতকালে কিংবা অধিক গরমে মাথায় ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে এবং তা থেকে খুশকির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

Photo: aksenova49.ru

অনেক সময় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাবেও চুলের গোড়ায় খুশকি হতে পারে। আর খুশকি হলে চুলের গোড়া নরম ও দুর্বল হয়ে যায়। যার ফলে চুল অকালেই ঝরে যায়।

শুষ্ক ত্বক

শুষ্ক ত্বকে খুশকির আক্রমণ দেখা যায়। বিশেষ করে শীতকালে যখন ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় তখন ত্বকে খুশকি দেখা যায়। আর তাই চুলকানি বেড়ে যায়, তুষের গুঁড়োর মতো খুশকি চুল থেকে জামাকাপড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তাই শুষ্ক ত্বকের যত্নে নিয়মিত তেল ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে জলপাই তেল, নারকেল তেল প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। ত্বকের মসৃণতায় তাই জলপাই তেল, বাদাম তেল, নারকেল তেল ব্যবহার করুন।

চুলে বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার ও অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা

অনেক সময় দেখা, যায় চুলে বিভিন্ন ধরণের পণ্য ব্যবহার করলে খুশকি হতে পারে। অনেকে ভালো ব্রান্ডের পণ্য না কিনে বাজার থেকে দেখতে আকর্ষণীয় যেকোনো কম দামী ও নিম্নমানের পণ্য কেনে। পরে এসব পণ্য মাথার ত্বকে ব্যবহার করলে চুলকানি ও ফুসকুড়ি হতে পারে।

Photo: The Belgravia Centre

তাছাড়া অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে চুলের মসৃণতা নষ্ট হয়ে যায়,কোষ মরে যায়, খুশকির উপদ্রব বাড়ে । তাই অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করাও উচিত নয়।

ত্বকের নানাবিধ সমস্যা

ত্বকে খোস পাঁচড়া, অ্যাকজিমা, সিরোসিস, দাদ, সেবরিক ডার্মাটাইসিস হলে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। এসব কারণে খুশকি বেড়ে যায়। যদি ত্বকের অন্যান্য সমস্যার কারণে চুলে খুশকির পরিমাণ বেড়ে যায় তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। চিকিৎসক যেসব পরামর্শ দেবেন, সে অনুযায়ী চলুন এবং ওষুধ সেবন করুন।

Photo: Men’s Health

তাছাড়া পারকিনসন্স রোগ ও অন্যান্য স্নায়ুবিক অসুস্থতার জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের খুশকি জনিত সমস্যা দেখা যায়। যাদের হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার  ইতিহাস আছে, তাদেরও খুশকির প্রবণতা দেখা যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের এইচআইভি সংক্রমণ রয়েছে, তাদের সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি খুশকির সংক্রমণ  দেখা যায়।

সুষম খাবার না খাওয়া

খুশকি যে, শুধু অপরিষ্কার থাকার কারণে  হয় তা নয়। নিয়মিত সুষম খাবার না খেলে অপুষ্টিজনিত কারণে খুশকি হতে পারে। তাছাড়া জিংক, ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে না খেলে খুশকি দেখা যায়। তাই পরিষ্কার পরিছন্ন থাকার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ সুষম খাবার খেতে হবে।

মানসিক চাপ

মানসিক চাপ, উত্তেজনা ও হতাশা থেকে চুল পড়ে যায়, চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। মানসিক চাপের সাথে খুশকির সম্পর্কও থাকতে পারে। তাই খুশকি থেকে বাঁচার জন্য মানসিক চাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

বয়স জনিত কারণ

বয়সজনিত কারণে নারীদের তুলনায় পুরুষের মাথায় বেশি খুশকি হয়ে থাকে। হরমোনজনিত কারণেও পুরুষের মাথায় খুশকির উপদ্রব লক্ষ্য করা যায়।

Photo: YouTube

সাধারণত বিশ বছর থেকে শুরু করে মধ্য বয়সে এসে পুরুষদের  খুশকি জনিত সমস্যা বেড়ে যায়। নারীদেরও খুশকির সমস্যা  হয়, তবে পুরুষের তুলনায় কম।

খুশকি প্রতিরোধ

মাথায় অধিক খুশকি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও আরো কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

  • জেল, হেয়ার স্প্রে ও রাসায়নিক বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রীর ব্যবহার কমিয়ে আনুন।
  • রোদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্কার্ফ, ছাতা কিংবা অন্যান্য সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
  • শ্যাম্পু করার পর চুল জোরে আঁচড়াবেন না।
  • মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে প্রতিদিন চুল ধুয়ে নিন।
  • ঘরোয়া কিছু প্যাক লাগাতে পারেন।
  • মাথার ত্বকে নারকেল তেল, জলপাই তেল, মেথি এবং ঘৃতকুমারী ব্যবহার করতে পারেন।

Featured Image: leyliland.com

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.