ভিন্ন ধাঁচের ৭ টি ব্লাউজ ডিজাইন

আমরা সবাই নতুনত্বকে ভালোবাসি। হোক সেটা খাবারে বা বেড়ানোর জায়গায়। আর পোশাকের ক্ষেত্রে তো কথাই আলাদা। প্রতিটি উৎসব আমাদের দেশে নিয়ে আসে নতুন ধাঁচের, নতুন নামের পোশাক। সেসব পোশাক জনপ্রিয়তাও পায়,আবার আমাদের সংস্কৃতির সাথে কীভাবে যেন মিলেমিশেও যায়।

তবে নতুন নাম নতুন ধাঁচের যতো পোশাকই আসুক শাড়ি আর বাঙালি নারীর সম্পর্কটা যেন অবিচ্ছেদ্য। দাওয়াত হোক আর অফিসের বৈঠক শাড়িতে বাঙালি নারী দারুণ মানিয়ে যায়। শাড়িকে ধ্রুব ধরে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা তাই ব্লাউজে। আজকে আমরা তেমনই কিছু অন্য ধরনের ব্লাউজ সম্পর্কে জানবো, যা দাওয়াত এবং দৈনন্দিন কাজ, সবকিছুর সাথেই  মানানসই।

১. বেল স্লিভস

বেল স্লিভস; Source: craftsvilla.com

ষাট থেকে নব্বইয়ের দশক মাতানো এই ডিজাইন ঘুরে ফিরে আবারো হালের ট্রেন্ড হয়ে  উঠেছে। সকল বয়স ও  সকল ব্যক্তিত্বের নারীর সাথে এটি মানিয়ে যায়। এই ধরণের হাতা সাধারণ হাতার মত নেমে এসে কবজি বা তার কিছু নিচে কম বেশি চওড়া হয়ে ঘন্টা বা বেল এর আকার ধারণ করে। যার কারণে এর নাম বেল স্লিভস। কখনো চওড়া অংশের ঠিক উপরে ফিতে থাকে আবার কখনো চওড়া অংশটা তাক তাক করে কয়েক পরল হয় মানে প্লেট প্লেট করা থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর দৈর্ঘ্য থ্রি কোয়াটার বা লম্বা হয়ে থাকে। বেল স্লিভস আপনার হাতকে লম্বাটে দেখাতে সাহায্য করবে।

২. কোল্ড সোল্ডার

কোল্ড সোল্ডার; Source: beautyepic.com

কোল্ড সোল্ডার নামক ব্লাউজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল কাঁধ খোলা রাখা। এটিও বর্তমান ব্লাউজের কাঁটছাটের মধ্যে অন্যতম। কিশোরীদের ফতুয়া বা টপসের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্লাউজেও এটি জায়গা করে নিয়েছে। এ ধরনের ব্লাউজের হাতা কনুই পর্যন্ত বা থ্রি কোয়ার্টার হতে দেখা যায়। দুই কাঁধের জায়গায় ফাঁকা রেখে ব্লাউজের গলা করা হয়। অথবা কাঁধ ও গলা ফাঁকা রেখে কলার বোন বরাবরও ব্লাউজের গলা নেমে আসতে দেখা যায়। এই ব্লাউজের কাপড়টা একটু ভারি কাজ করা হলে হালকা কাজের শাড়ির সাথে দারুণ মানিয়ে যাবে। লেহেঙ্গার সাথেও এই কাটিংয়ের ব্লাউজ পরে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে পারেন যেকোন পার্টি বা দাওয়াতের জন্য।

৩. পেপলাম ব্লাউজ

পেপলাম ব্লাউজ; Source: amazonaws.com

১৮০০ শতকের দিকে উদ্ভাবিত এই ডিজাইন পুরো এক সহস্রাব্দ ধরে রাজত্ব করবে তা কে ই বা ভেবেছিল। ১৯৩০,১৯৪০ ও ১৯৮০ এ দিকে ওয়েস্টার্ন ফ্যাশনে ঝড় তোলা এই ডিজাইন এখন ঘুরেফিরে আবারও আলোচনায়। কোমর বা তার একটু নিচে ঘের দেয়াটা এই ব্লাউজের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ঘের কম বা বেশি যার যার ইচ্ছামত দিতে পারেন। সবরকম দৈর্ঘ্যের হাতার সাথে মানিয়ে যাবে এই ডিজাইন। মূলত নারী শরীরের গড়নকে উপমা দিতেই এই ব্লাউজ ডিজাইনের উৎপত্তি।

৪. অল্প কাটের ব্লাউজ

অল্প কাটের ব্লাউজ; Source: sweetcouch.com

ব্লাউজ পিসটা যদি হয় ইক্কত, কালামকারি, বান্ধেজ প্রিন্ট বা সিল্কের তাকে কেটে ছেটে ব্লাউজের আকার দিলে কাপড়ের অধিকাংশই নষ্ট। এ ধরনের ব্লাউজের কাপড়ের ক্ষেত্রে চেষ্টা থাকে, যত কম কেটে তাকে ব্লাউজের আকার দেয়া যায়। তাই যেটা করতে পারেন, বোট নেক ডিজাইনের সাথে পিঠে বা কাঁধের দিকে ছোট ফাড়া দিতে পারেন। এতে আপনার ব্লাউজের ডিজাইনকে সেকেলে নয়, হালের ফ্যাশনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখাবে। এর সাথে কনুই পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের হাতা ভালো মানাবে।

৫. পিঠে কারুকার্য করা ব্লাউজ

পিঠে কারুকার্য করা ব্লাউজ; Source: thedailynewnation.com

অনেকে গহনা কম পরতে ভালোবাসেন বা দ্বিধায় পড়ে যান কোনটা ছেড়ে কোনটা পড়বেন শাড়ির সাথে মিলিয়ে।  তাদের জন্য একটি সমাধান হতে পারে, ব্লাউজে কিছু মুক্তা বা স্টোন ব্যবহার করা। পিঠের দিকে বা কলার বোন বরাবর এক বা একাধিক তাকে লাগিয়ে নিতে পারেন মুক্তা বা স্টোন। আবার ব্লাউজের গলার সেলাইয়ের সাথে মালার মত স্টোন ও পুতি দিয়ে ডিজাইন করা থাকে যেটা দেখতে গলার হারের মতো দেখায়। উভয়ই মানিয়ে যাবে। কিন্তু সেটাই বেছে নেয়া ভালো, যেটা আপনার এবং আপনার ব্যাক্তিত্বের সাথে মানানসই।

৬. কলার ব্লাউজ

কলার ব্লাউজ; Source: stylishandtrendy.com

ব্লাউজ যেমনই হোক তার সাথে নানান রকমের কলার জুড়ে দিয়ে নতুনত্ব আনা যেতে পারে। চাইনিজ কলার মানে ব্লাউজের সাথে হাফ কলার ব্লাউজ ডিজাইন অনেক প্রচলিত। যেটাকে আমরা মাঝেমধ্যে মেট্রো গলা বলে থাকি। আবার অনেককে ব্লাউজের সাথে শার্টের মত কলার দিয়েও পরতে দেখা যায়। উভয়ই যেকোন প্রাতিষ্ঠানিক কাজে পরে যাওয়ার জন্যে উপযুক্ত। ব্লাউজের ক্ষেত্রে অনেক সময় উপরের অংশ নেটের বা স্বচ্ছ কাপড়ের দিয়েও কলার দেয়া হয়। এগুলোর সাথে যেকোনো দৈর্ঘ্যের হাতা মানিয়ে যাবে।

৭. কেপ ব্লাউজ

কেপ ব্লাউজ ; Source: fashionpro.me

ব্লাউজের সাথে কেপ পরা একটি ইন্দো-ওয়েস্টার্ন সমন্বিত সংস্কৃতি। আগে আমরা জানতাম, কেপ সুপারহিরোদের পরার জিনিস। ২০১৬ তে ফ্যাশন গুরুরা ব্লাউজের সাথে কেপ ব্যবহার করে এ নতুন ধারার প্রচলন করেন। সাধারণত কেপের কাপড়টা হয় স্বচ্ছ, যার উপর দিয়ে নিচের ব্লাউজ দেখা যায়। ব্লাউজটি একটু ঢিলেঢালা রকমের হয়। এর গলার সেলাই থেকেই কেপটা শুরু হয়। সিল্ক বা জুট শাড়ির সাথে ভালো যাবে এই ধরনের ব্লাউজ। একটু আভিজাত্য আনতে কেপের উপরে মেটাল চেইন বা মুক্তার মালার কয়েক তাক জুড়ে দেয়া যায়।

ফিচারড ইমেজ ঃ youtube.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.