যে ৬টি কাজ পুরুষদের চুলের ক্ষতির কারণ হতে পারে

পুরুষদের চুল এবং চুলের সমস্যা; Source: albawabacdn-albawabamiddleea.netdna-ssl.com

একজন রুচিশীল পুরুষ নিজের পোশাক ও পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন থাকেন। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব প্রকাশে যেমন কথাবার্তা গুরুত্ব পায়, তেমনি তার বাহ্যিক অবয়বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। চুল পুরুষের সৌন্দর্য প্রকাশের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয় একটি অংশ। আমাদের আশেপাশের পরিবেশ ও আবহাওয়া কোনোটাই এখন চুল ও ত্বক ভালো রাখার জন্যে অনূকুল নয়। সেদিকে খেয়াল রেখে আমাদেরই আরো সচেতন হতে হবে।তাই যে কাজগুলো আপনার চুলের ক্ষতি করতে পারে, সেরকম ৬টি কাজের ব্যাপারে আলোচনা করা হলো।

১. নিজের ব্যক্তিত্ব না বুঝে হেয়ারকাট দেয়া

নিজের ব্যক্তিত্ব ও শারীরিক গড়ন বুঝে চুলের স্টাইল করতে হবে ; Source: st.biglion.ru

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা ব্যাপারটা দৈনন্দিন জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে অন্ধ অনুকরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চুলের কাট জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশ্বকাপের মৌসুমে ফুটবলারদের দেয়া চুলের কাট যেমন অনেককে দিতে দেখা যায়, তেমনি জনপ্রিয় হওয়া কোনো চলচ্চিত্রের নায়কের মত চুলের কাটেও অনেককে খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এইসব চুলের কাট দেয়ার আগে যেটা প্রথমেই ভাবতে হবে, সেই কাটটি আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে মানাবে কিনা। যে কাটটি দিতে যাচ্ছেন, তা বাড়িতে বসে পরিচর্যার যোগ্য কিনা বা সুলভমূল্যে পরিচর্যা করা যাবে কিনা। এসব প্রশ্নের উত্তর পাবার জন্য বাড়িতে বসে ইন্টারনেটে ঘাঁটাঘাঁটি করতে পারেন বা শরণাপন্ন হতে পারেন কোন হেয়ার স্টাইলারের। অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে অন্যের হাসির পাত্র যাতে না হতে হয়, সেজন্য আগেভাগেই ব্যাপারগুলো নিয়ে ভাবা দরকার।

২. অতিরিক্ত পরিষ্কার করা

অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা যাবে না, এতে চুলের ক্ষতি হতে পারে  ; Source: static.oprah.com

আমাদের দেশে ছেলেদের রোজই বাইরে বের হতে হয় এবং আশেপাশের ধুলো ময়লা থেকে চুলের ক্ষতিও হয়। যে জন্য নিয়মিত শ্যাম্পু করাটাও জরুরি। শ্যাম্পুতে থাকা কেমিক্যাল ময়লা দূর করে এবং মাথার ত্বক ও চুল থেকে তেলকে আলাদা করে ধুয়ে ফেলতে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে চুল শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। যা পরবর্তীতে চুল পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া অতিরিক্ত শ্যাম্পুর প্রভাবে মাথার ত্বকে থাকা সিবাম নামের প্রাকৃতিক তেলও ধুয়ে যেতে পারে। তাই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে মাথার ত্বকের ধরন বুঝে, শ্যাম্পুর তীব্রতা বুঝে । আবার অনেকে শ্যাম্পু করলেও ভালোমত মাথা পরিষ্কার করেন না। যার ফলশ্রুতিতে মাথায় জন্ম নেয় খুশকি। তাই মাথায় যেন খুশকি না হয়, সে ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে হবে।

৩. চুল কাটা বা ছাঁটায় দেরি করা

চুল কাটতে বেশি সময় নেয়াও চুলের জন্যে ভালো নয়। প্রতি মাসে অন্তত একবার চুল কাটা উচিত। তবে সেটা একেকজনের চুলের বৃদ্ধি ও ধরনের উপর নির্ভর করবে। কারো চুলের বৃদ্ধি বেশি হলে তার এক মাসের মধ্যেও চুল কাটা লাগতে পারে। আবার যার চুলের বৃদ্ধি কম, তার হয়তো প্রতি দুইমাসে একবার চুল কাটতে হয়। চুল কাটার সময় কেচি বা ব্লেড যাতে ভালোমত পরিষ্কার করা থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় খুশকির মত চুলের সমস্যাগুলোতে অন্যের কাছ থেকে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। আবার চুল কাটার পর চুলের কাট সুন্দর দেখানোর জন্য জেল বা হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪. তোয়ালে ব্যবহারে অসতর্কতা

চুল শুকাতে তোয়ালে ব্যবহার করার সময় যত্নবান হতে হবে ; Source: stylesy.de

পুরুষদের ক্ষেত্রে কিছু ব্যাপার একটু তাড়াহুড়ো করার প্রবণতা থাকে। ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে মোছা তাদের মধ্যে একটি। তারা এই কাজটায় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে কিছু ব্যাপার ভুলে যান। চুল ভেজা অবস্থায় সবচেয়ে নরম থাকে এবং গোড়া ভিজে থাকার কারণে চুল ছিঁড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে অনেক। ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে মুছলে  তোয়ালের ঘষায় আপনার ব্যবহার করা কন্ডিশনারের প্রভাবও কমে যায়, ফলে চুল হয় রুক্ষ। তাই তোয়ালে দিয়ে ঘষে না মুছে চেপে চেপে চুল মুছতে হবে। ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়ানো থেকেও বিরত থাকতে হবে। চুল ভালোমত শুকানোর পর আঁচড়াতে হবে।

৫. নিজে চুল কালার করা

দুই-একটি পাকা চুলের ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যাপার, তা না হলে বাড়িতে চুল কালার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এক্ষেত্রে  অনেকগুলো দিক বিবেচনা করে নিতে হয়। যেমন, নিজের গায়ের রঙের সাথে মানানসই রং বেছে নিতে হবে । আবার নিজে নিজে কালার করলে রং বেশি গাঢ় করে ফেলার সম্ভাবনা থাকে। তাই সেলুনে বা মেনজ পার্লারে যাওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া কোন হেয়ার স্টাইলিস্টের সাথেও কথা বলে নেয়া যেতে পারে।

৬. নিজের টাকের ধরন না বুঝে স্টাইল করা

নিজের টাকের ধরন বুঝে স্টাইল করা যেতে পারে ; Source: peopledotcom.files.wordpress.com

টাক দেখা দেয়া একজন পুরুষের শারীরিক পরিবর্তনের অংশ। এর পেছনে যেমন মানুষের নিজের কিছু কাজ দায়ী থাকে, আবার কারো ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হয় বংশগত। টাকের ধরন না বুঝে নিজের ইচ্ছেমত যেকোনো চুলের স্টাইল করলে অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে।টাক সমস্যা দেখা দিলে এর সাথে মিলিয়েই নানাভাবে চুলের স্টাইল করা যেতে পারে। তবে কোনটাই যদি ভালো না যায় আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে,  তবে একদম সব চুল ফেলে দেয়াটাও একটি সমাধান হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.